'নোনাজল' নাটকটি মোহিত চট্টোপাধ্যায় লিখেছিলেন১৯৮৪ তে আর রঙ্গপটের গুরু প্রণাম ২০২৬, ৮ ফেব্রুয়ারি তপন থিয়েটারে বসে দেখতে দেখতে অনেক ভাবনা মাথায় খেলছিল। প্রথমেই বন্ধুপ্রতিম দেবদূত ঘোষকে অনেক শুভেচ্ছা সম্পাদনা, নির্দেশনা এবং অভিনয় এই তিন বিভাগেই দক্ষতার পরিচয় দেওয়ার জন্য। নিজের মুখোমুখি হবার ইচ্ছে ফুলকি যদি জেগে ওঠে! বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নাটকটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক । সব অনাচারের পাশে আমাদের স্থানু অবস্থানের মুখোমুখি এই নাটক। ভাবতে থাকি --আমরা দৌড়চ্ছি অথচ এক ইঞ্চিও এগোচ্ছি না। 'Space Age ', Information Age, Global Villege, post industrial society, super industrial society, আরো কত কত কত কথা আচ্ছন্ন করে ফেলছে ! আবার এলো এ আই এর মাতব্বরি! কিন্তু মানুষ কী নিয়ে বাঁচবে ? বেঁচে থাকার আধারটা কী হবে? সে কি এমনি এসে ভেসে যাবে ? পুঁজির প্রবল তাণ্ডবে মানুষ শুধুই বৈশিষ্টহীন হতে হতে আত্মপরিচয়ের অভিমানটাও ভুলে যাবে ? নৈতিকতার স্থান থাকবে তো জীবনে ? নাকি লোভ সাগরের ঢেউ তাকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে ? বিত্তের বিষ-ছোবল থেকে মানুষ কতদিন কতভাবে নিজেকে বাঁচাতে পারবে ? নাটকটা দেখছিলাম। নাটক ছাড়িয়ে ভাবছিলাম। দর্শক হিসেবে নাটকটির ভেতরে ঢুকে আমিও একজন অদৃশ্য অভিনেতা হয়ে গিয়েছিলাম । নিজের মাথার ভেতরের মঞ্চে। প্রবহমান জীবনের স্রোতের ভেতরে ফেটে ফেটে যাচ্ছে জীবন , জীবনের নৈতিকতা, প্রতিজ্ঞা! এসব নাটক ছাড়িয়ে ভাবা।যে নাটক ভাবায় ভাবাতে পারে এমন কি নাটককে ছাড়িয়েও ভাবাতে পারে, তখন বুঝতে হয় নাটকের জোর। অভিনয়ের জোর। অভিনয়ে সকলেই খুব সাবলীল। স্বচ্ছন্দ। সকলকে ধন্যবাদ।। * আর একটা টেকনিকাল কথা মঞ্চের মাথায় নেট / জাল ঝুলছে। অসাধারণ !
হিরন মিত্র।
আকাদেমিতে নোনা জল দেখলাম।যেটা বলার কথা এই সবুজ দূর্নীতির সমাজে কালো ও নীলটাকার রমরমা, এবং সমস্ত রকম দূর্নীতি মান্যতা পেয়ে যাচ্ছে, আদালত প্রশাসন, ভোট যন্ত্র সব কালো টাকায় মোড়া। সবাই একধার থেকে ঘুষ খোর। আর শাসক ধর্ম ও হিন্দু মুসলমান, ঘুষপেটিয়া করে যাচ্ছে। আাদানি আম্বানির মৌরসীপাট্টা। আমরা অসহায় দর্শক। তার মধ্যে নোনা জল ঢুকে গেছে, যা পান যোগ্য নয়। তাই এই নাটক এখন হওয়া দরকার,মানুষের চেতনার দরজায় কড়া নাড়ার জন্য। পরবর্তী অভিনয়ের খোঁজ রাখুন।
দশ বছর আগে পাড়ার ফুটপাতে যদি একটা মন্দির থেকে থাকে, এখন মিনিমাম তিনটে হয়েছে।
দশ বছর আগে যদি মহল্লায় একটা মদের দোকান থেকে থাকে, এখন মিনিমাম তিনটে হয়েছে।
আর স্কুলগুলো?
মিত্র মেইন চেনেন? যেখানে শিক্ষকতা করতেন গাইঘাটার কিংবদন্তি বরুণ বিশ্বাস? শিয়ালদার একশো বছরের পুরনো স্কুল।
বাড়িটা নিজেই ঐতিহাসিক। ১৮৯৭ সালে আমেরিকা ইংল্যান্ড সফর শেষ করে অবশেষে দেশে ফিরে বিবেকানন্দ নামলেন শিয়ালদহ স্টেশনে। সেখান থেকে ছাত্ররা শোভাযাত্রা করে তাঁকে সম্বর্ধনা জানাতে নিয়ে এসেছিল এই ভবনে। তখন এটা ছিল রিপন কলেজ।
সেই মিত্র মেইন। ক'দিন আগে পর্যন্ত গমগমে ছিল। এখন উল্কাগতিতে ছাত্র কমছে। এরকম চললে কিছুদিনের মধ্যেই রুগ্ন শীর্ণ হয়ে যাবে।
একটা মিত্র শুধু নয়, শহরাঞ্চলে সরকার পোষিত স্কুলের গঙ্গাযাত্রা এই দশ-পনেরো বছরে অতি পরিচিত একটি ঘটনা।
কার কী এসে যায়?
Bipul Bhattacharya .
মন্দির আর মদের দোকান তো বাড়ছেই!
বুকের পাঁজরে হাপড়ের টানে আগুনের আঁচ
হর ভট্টাচাৰ্যের কাব্যিক অথচ নাটকীয় সংলাপ আর সংঘাতময় নাট্যগঠন আমার ভারি প্রিয়। আগুনের বর্ণমালা, অয়দিপউস, অদ্ভুত আঁধার, প্রকৃতিপাঠ, চৈতণ্য, তাজমহল, কৃষ্ণকথা.. কী টানটান সব সংলাপ নির্মাণ আর নাট্য গঠন। ইদানিং ঐসব সাজানো অবয়ব আর আড়াল ছেড়ে হরদা ঘুরে বেড়াচ্ছেন সমসময়ে, চারপাশের ঘষটানো অন্ধকারে, ঘটমান গলিঘুঁজিতে। এই সময়ের রাষ্ট্র, সমাজ, রাজনীতি.. মানুষের কান্না, বঞ্চনা, প্রতিরোধ উঠে আসছে তাঁর শিরদাঁড়া-সোজা কলমে। সম্প্রতি দেখলাম পিএলটির প্রযোজনায় তাঁর নতুন নাটক, 'পাঁজরে ডানার শব্দ '.. তাঁরই 'ব্যারিকেড ৫০' -য়ের অনুসারী হয়ে। মিলিত মানুষের সংগ্রাম এই পর্বে হয়ে উঠেছে এক প্রান্তিক মেয়ের একার লড়াইয়ের কাহনে, যা মিশে যাচ্ছে অযুত মানুষের লড়াই আর ইচ্ছাপূরণের অভিযাত্রায়। উৎপল দত্তের সেই মহান প্রোপাগান্ডিস্ট থিয়েটার আর জনতার আদালতে এখনো জানকবুল শামিল মন্ত্রশিষ্যরা.. আর তাই কমলেশ (চক্রবর্তী ) নিবিষ্ট লক্ষ্যে নিপুন কুশলতায় ছিমছাম সাজিয়ে নিয়েছে আটপৌরে নাটকটিকে, যা চাঁদের আলোর মত বিছিয়ে যায় দর্শকের মন জুড়ে.. তবু কোথাও কি উসকে দেয় এক আগুনের ঝলকানি ? দেবদূত (ঘোষ ) চমকে দিয়েছে নিজের চিত্রতারকাসুলভ চেহারা আর অভিনয়ভঙ্গিমা ভেঙেচুরে এক অসামান্য চরিত্রাভিনয় করে। আর সবচেয়ে বড়ো চমক, একদম পুঁচকি পুঁচকি তিন-চারটে বাচ্চা.. কী মিষ্টি তারা মঞ্চের ওপরে- যাদের জন্য কোনো আদরই যথেষ্ট নয়, কমলেশের মাস্টারস্ট্রোক !!
# পরিশেষে বলি, ওয়ার্ম আপ অনেক হলো.. এবার আগুনখেকো বোলিং চাই, হরদা ✊🌹
তাঁর শতবর্ষে যে প্রশ্নটা আমাদের তাড়া করে বেড়ানো উচিত তা হলো কে বহন করে সলিল চৌধুরীর উত্তরাধিকার ? সে হিম্মত আছে কার ?
তাঁর যতগুলো গানকে সরাসরি গণসংগীত পর্যায়ভুক্ত করা যায় তার একটাও কোনো ড্রয়িং রুমে বসে লেখা নয়। মাঠে ময়দানে গণসংগ্রামে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের ফসল। তিনি নিজেই বলেছেন গণআন্দোলনে লিপ্ত ছিলেন বলেই এ গান তিনি লিখতে পেরেছেন। Onlooker নয় Participant . মাত্র ১৭ -১৮ বছর বয়েসে জীবনের প্রথম লেখা গণসংগীতটি ছিল বিচারপতি তোমার বিচার করবে যারা ...। গাওয়া শুরু হওয়ার অব্যবহিত পরেই পুলিশ গানটি নিষিদ্ধ করে।
১৯৪৬ সালে আসামের ট্রেড ইউনিয়ন নেতা বীরেশ মিশ্রর সঙ্গী হয়ে ডাক- তার-রেল ধর্মঘটের সমর্থনে উত্তরবঙ্গ থেকে আসাম জুড়ে স্টেশনে স্টেশনে রেলকর্মীদের সভায় গান গাইতে চলে গেলেন । প্রতি সভার বীরেশ মিশ্রের ভাষণের আগে রেলকর্মীদের সংগ্রাম নিয়ে একটা গান লিখে গাইতে হতো।
সলিল লিখেছেন , "বীরেশদার সাথে আমার যাত্রা চললো একটা ইঞ্জিনের পাশের বগিতে চেপে। আমি আমার সাথে শুধু আমার সিঙ্গল রিড হারমোনিয়াম নিয়েছিলাম।''
সেই 'সিঙ্গল রিড হারমোনিয়াম' কাঁধে নিয়ে সলিল চৌধুরী প্রতিটি স্টেশনে নিজের গান গেয়েছেন। তাঁর কথায়, "আমার মনে নেই সেই সব গান কোথায় হারিয়ে গেছে, শুধু একটি গানই টিকে আছে, যা চলন্ত ট্রেনের চাকার শব্দের ছন্দে রচিত।"
জানেন তো গানটা ? হ্যাঁ , ঠিকই ধরেছেন। কালজয়ী "ঢেউ উঠছে কারা টুটছে আলো ফুটছে ..."। আজও রক্তে মাতন ধরিয়ে দেয় ।
এই সলিলের উত্তরাধিকার বহন করেন কে ? বুকে হাত দিয়ে বলেন তো ?
বিপুল ভট্টাচার্য।
একটা রিক বাগদি গোটা মানব সভ্যতাকে শিক্ষা দিয়ে দিল!... ও বড় হয়ে বোকা হতে চায়! তবেই ও কাউকে ঠকাতে পারবে না!..
পৃথিবীর সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেল করিয়ে দিলি বাপ!
*আদর*
গত শনিবার নন্দনে (২), অনুভব থেকে আমরা কিছুজন সহকর্মী, শ্রী দেবদূত ঘোষ মহাশয় পরিচালিত "আদর" সিনেমাটি দেখলাম।
আমাদের সংগঠনের মূল কাজটাই হলো বন্যপ্রাণ এবং প্রকৃতির সংরক্ষণের সচেতনতা নিয়ে কাজ করা।
তাই আদর সিনেমাটি আমাদের সকলের জন্যই অসম্ভব আদরের এবং শিক্ষণীয় একটি ছবি তা বলাই বাহুল্য।
সহানুভুতি, সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা ও বন্ধনের চিরগাথা হয়ে ইতিহাসে থেকে যাবে এই ছবিটি।
জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।
এই পৃথিবীটা যে সকলের তা আমরা মানে জগৎ - এর শ্রেষ্ঠ জীব বলে দাবী করা মানুষেরা বার বার তা ভুলে যাই।
এই ব্রহ্মান্ড- এর প্রতিটি প্রাণী - পাখি - কীট - পতঙ্গ - উদ্ভিদ ইত্যাদি সকলের সমান অধিকার।
মানুষ এবং প্রাণীর এক নিঃশর্ত ভালবাসার গল্প বলেছেন শ্রী ঘোষ।
আদরের প্রতিটি কলা - কুশলী, চিত্রনাট্যকার, চিত্রগাহক, প্রযোজক, সঙ্গীত পরিচালক, পরিবেশক সকলকে অনুভবের তরফ থেকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই এইরকম একটি চমৎকার ছবি বানাবার স্পর্ধা রাখার জন্য আজকের এই ব্যবসায়িক দুনিয়ায়।
And last but not the least
Captain of the Ship শ্রী দেবদূত ঘোষ, আপনাকে অকুণ্ঠ অভিনন্দন আদরের মতোন একটা ছবি মানবজীবনকে উপহার দেওয়ার জন্য।
ছবিটি দেখে যদি সামান্যতম অনুকম্পা আমাদের মধ্যে সঞ্চারিত হয় এই আশায় আমার এই দীর্য লেখায় ইতি টানলাম।
ভালো থাকুন আপনি এবং আপনারা।
জয় হোক।
কৃতজ্ঞতা,
বাবিন দে
# 9830246760
*ANUBHAB - Expedition For Better Tomorrow*
চিত্রপরিচালক Sohini Dasgupta লিখেছেন…
ছুরি মেরে খুন, গুলি করে খুন, ছাদ থেকে ঠেলে খুন, কুপিয়ে কুপিয়ে খুন, নাক কেটে খুন, টুক করে খুন, ফচাৎ করে খুন - দেখতে দেখতে একটা টায়ার্ড লাগলে Debdut Ghosh এর "আদর" দেখে আসুন। শান্ত, মেদুর, আদরের মায়ামমতায় ভরা।
আদর
কিছু সাফল্য আছে, যা সদিচ্ছার। কিছু প্রয়াস আছে, যা সুস্থ ভাবে বেঁচে থাকার। কিছু কৃতিত্ব আছে, যা আত্মীয়দের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার।
অভিনেতা দেবদূত ঘোষের পরিচালিত ছবি 'আদর' মুক্তি পেল। প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের গল্প আদরিণী দেবদূতের আদর। একটা হাতিকে নিয়ে এ আখ্যান। সেই ছোট্ট হাতির সঙ্গে পাহাড়ের কুয়াশার মতো জড়িয়ে গেল, হিংসা, ক্রোধ, অনমনীয় জেদ, পিতৃত্ব। পরতে পরতে ঘিরে ধরল ভালবাসা।
এই সামাজিক অবক্ষয়ের মরসুমে , এরকম গল্প নিয়ে ছবি করা সত্যি অভিবাদার্হ।
টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি এখন টেকনিকালি অনেকটা এগিয়ে গেছে। অনেক গতি তার। তাই অসীম বোসের মতো সিনেমাটোগ্রাফারের খোঁজ পায় না! তাঁর ক্যামেরা যেন প্রকৃতির বিশাল এক ক্যানভাসে, মনের রঙে তুলি ডুবিয়ে ছবি এঁকে গেল! বৃষ্টির সোঁদা গন্ধ নাকে এল। প্রতিটি ঘাস পাতা সজীব হয়ে উঠল।
রজতাভ দত্তর প্রতিটি কোষে অভিনয় বাসা বেঁধেছে, এ নতুন কোনও তথ্য নয়। নতুন হল, তাঁর অভিনয়ে পিতৃত্ব এসেছে। পূর্ণতা এসেছে। রজতাভ আজ সমৃদ্ধ।
প্রযোজক এই ছবি করে কতটা আর্থিক সুবিধে করতে পারবেন, তা তো কাউন্টার হিসেব দেবে! একটা সুস্থ সমীহায় যে উনি শামিল হয়েছেন, এটাই ভরসা যোগায়।
দেবদূতরা শোভন সংস্কৃতির দৌত্য অভ্যাহত রাখুক।
বাল্মীকি চট্টোপাধ্যায় ।